Home পটভূমি ও সূচনা

পটভূমি ও সূচনা

জ্যোতির্বিজ্ঞান-বিজ্ঞানের মৌলিক শাখাগুলোর মধ্যে অন্যতম। সম্ভবত সবচেয়ে পুরোনোও বটে, কারণ যুক্তিভিত্তিক বিজ্ঞানকে চেনার আগেই মাথার ওপর থাকা আকাশকে নিয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছে মানুষ-তার সাক্ষী হয়ে আছে ইতিহাস, রূপকথা আর পৌরাণিক কাহিনীগুলো। গণিত-পদার্থবিজ্ঞানের স্পর্শ পাওয়ার পর জ্যোতির্বিজ্ঞান হয়ে উঠেছে মানুষের নিত্যদিনের অংশ। আকাশের তারা দেখে দিক নির্দেশনা, কিংবা দিবা-রাত্রির দৈর্ঘ্য পরিবর্তন দেখে কৃষিকাজ করা, জ্যোতির্বিজ্ঞানের এমন সব অবদান বলে শেষ করা যাবে না।

 

বিংশ শতাব্দী থেকে শুরু হয় জ্যোতির্বিজ্ঞানের অপ্রতিরোধ্য জয়যাত্রা। এ শতকেই মানুষ পৃথিবীর বাইরে প্রথম পদার্পন করে, উৎক্ষেপিত হয় স্যাটেলাইট। রেডিও কমিউনিকেশন, ইন্টারনেট, জিপিএস-জ্যোতির্বিজ্ঞান জড়িয়ে আছে আধুনিক জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। মানুষ আজ যে স্বপ্ন দেখছে পৃথিবীর বাইরে আরেক পৃথিবী গড়ে তোলার, তার সাহস যোগাচ্ছে জ্যোতির্বিজ্ঞান।

 

কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, জ্যোতির্বিজ্ঞানের এ মিছিলে বাংলাদেশ এখনও পেছনের সারির পথিক। বাংলাদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞান এখনও সৌরজগত আর এর বাইরের গুটিকয়েক গ্রহ নক্ষত্রের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।পাঠ্যবইয়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোচনা যতটুকু আছে, সেটাও শিক্ষার্থীদের কাছে ধাঁধার মত। মূলধারার জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান নিয়ে বাংলা ভাষায় রচিত বইয়ের সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল, নেই কোন ব্যবহারিক পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক ব্যাপার, দেশের কোথাও জ্যোতির্বিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা নেই, এমনকি পদার্থবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষাতেও জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলোচনা খুবই সামান্য।

 

Open Space বাংলাদেশের একদল জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমী শিক্ষার্থীদের একটি স্বপ্নের নাম। বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্যোতির্বিজ্ঞানের জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্য নিয়ে ২০১৭ সালের ১ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে Open Space। মূলত ম্যাগাজিন হিসেবে শুরু করলেও Open Space এর লক্ষ্য বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য জ্যোতির্বিজ্ঞান চর্চার একটি পরিপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা, যেখানে শিক্ষার্থীরা জ্যোতির্বিজ্ঞানকে জানবে, নিয়মিত চর্চা করবে, প্রস্তুত হবে একুশ শতকের জ্যোতির্বিজ্ঞান গবেষণার জন্য।